বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়ক নীতির পরও এখনো ঋণ পেতে নানা ধরনের বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি পর্যায়ের শিল্প খাতের (এমএসএমই) উদ্যোক্তারা। এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গতকাল ‘অর্থায়নের সুযোগ: নীতি থেকে প্রয়োগ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এ কথা উঠে আসে।
বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মো. মুসফিকুর রহমান বলেন, ‘অর্থায়নের অভাবে বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ এমএসএমই উদ্যোক্তার প্রকৃত সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যায়নি। দেশের অর্থনীতিতে এসএমই উদ্যোক্তাদের অবদান বাড়াতে এখনো অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।’ এসব বাধা দূর করে অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার বিভাগ, সুইসকন্টাক্ট ও ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের সহায়তায় আয়োজিত এ বৈঠকে এমএসএমই উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি ও প্রয়োগের ব্যবধান কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেন উদ্যোক্তা, ব্যাংকার, নীতিনির্ধারক এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা।
এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড এমএসএমই উদ্যোক্তাদের অগ্রগতির বাধাগুলো দূর করে তাদেরকে সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী করতে সবার সহায়তা প্রয়োজন।’
বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩২ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের ১ কোটি ১৮ লাখের বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশ কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশ এমএসএমই খাতে। এ খাতে প্রায় ৩ কোটির বেশি জনবল কর্মরত রয়েছে।
বৈঠকে এসএমই ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারজানা খান বলেন, ‘উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সংকট নিয়ে বহুদিন ধরে আলোচনা হলেও খুব কম সমস্যারই সমাধান হয়েছে।’
এ সময় সুইসকন্টাক্টের ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টা রুখেন উদ্দিন আহমদ এমএসএমই উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের সমস্যা দূর করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বাইরে বিকল্প উৎসের অনুসন্ধান করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।
বৈঠকে আরো জানানো হয়, অধিক জনসংখ্যা ও সীমিত সম্পদের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এসএমই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, পরিবেশগত সুরক্ষার মাধ্যমে এসএমই খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন সরকারের ‘জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২’, ‘এসএমই নীতিমালা ২০১৯’ ও ‘এসডিজি ২০৩০’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা এসএমই ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধাভোগী প্রায় ২০ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, যাদের ৬০ শতাংশই নারী উদ্যোক্তা।